This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

ভালোবাসার ব্যাবচ্ছেদ।

ভালোবাসা একটি দুমুখো শব্দ। ইহার দুইটি পক্ষ থাকে, একপক্ষ ভালোবাসা পাঠায়, অন্যপক্ষ তাহা গ্রহন করে। যদি প্রেরকপক্ষ এটি না পাঠায়, তবে তাহার কোনো অস্তিত্ব নাই। আবার গ্রহীতা যদি যত্নসহকারে তাহা গ্রহণ না করে, তবে তাহা নষ্ট হইয়া যায়। ভালোবাসার শক্তি অনেক। যিনি অন্যকে ভালোবাসেন তিনি মানুষ, কিন্তু যিনি শত্রুকেও ভালোবাসিয়া আপন করিয়া নিতে পারেন, তিনি মহামানুষ। আমি ভালোবাসিতে চাই আমাকে, আমার শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গকে। ভালোবাসিতে চাই উদ্দাম-উলঙ্গ ছুটে চলা বেদে মায়ের সন্তানকে, গাজায় ফোটা কোমল শিশুকে যে জানেনা তাহার অপরাধ কি? ভালোবাসিতে চাই গ্রেনেড শেলে ভালোবেসে ফুল ফুটিয়ে দেওয়া সেই ফিলিস্তিনি তরুণ/তরুণীকে। হয়ত সে এর দামামার ঘায়ে বাঁচিয়া নাই, কিন্তু তাহার ভালোবাসা আমাদের স্বীকার করিয়া লইতে হইবে। ভালোবাসিতে চাই ম্যাক্সিম গোর্কির শব্দক্যানভাসে শব্দ দিয়ে আঁকা সেই আদর্শ মাকে, আমার মাকে, পৃথিবীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণী মাকে। আমি ভালোবাসিতে চাই আফ্রিকান হতদরিদ্র সেই পরিবারকে যারা পুঁজিবাদের চাপে জর্জরিত, চাই ভালোবাসিতে কৃষক হইতে চালক, শ্রমিক হইতে মেথর সবাইকে। ভালোবাসি ক্ষুদিরাম বসু হইতে ভগৎ সিং, গান্ধী হইতে আম্বেদকর, শেরে বাংলা হইতে ভাসানী, সবাইকে। আমি ঘৃণা করি ধর্মকে - যাহা সহিংসতায় তাহার অনুসারী মানুষগুলোকে ঠেলিয়া দিয়া গোড়া কাটিয়া আগায় পানি ঢালিবার জন্য দু'একটি শান্তি ও অহিংসতার বাণী শোনায় যাহা মানুষে মানুষে বিভেদের দেওয়াল খাড়া করে, মমত্বকে মারিয়া ফেলে, ভালোবাসাকে সৎকার করে। 'মতবাদকে ঘৃণা করি বলিয়া তাহাদের অনুসারীদেরও ঘৃণা করি'- এমন ভাবা ভুল হইবে। একজন মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, শিখ ধর্মের অনুসারী ব্যক্তি যদি আমার বাড়িতে আসেন, আমি তাহাদের সমানভাবে ভালোবাসিবো, আমার শ্রেষ্ঠ আতিথেয়তা তাহাদিগকে উপহার দিবো। আমি তাহাদের মতাদর্শের সঙ্গে একমত নই বলিয়া কখনোই তাহাদিগকের পানে অবমাননা কিংবা কটুক্তির তীব্র বাণ ছুড়িয়া দিবো না। আমি ভালোবাসি জেন্দা-বেস্তা ওয়ালাদের, বাইবেল-কোরান গীতা-ত্রিপিটক ওয়ালাদের, সমস্ত জীবজগৎকে, আমার দেশকে, আমার গ্রহকে। তবে এতসব ভালোবাসাদান তখনই স্বার্থক হইবে, যখন গ্রহীতা তাহা বুঝিতে পারিবে ও গ্রহন করিবে। আবার ভালোবাসিতে গেলে সঠিক পদ্ধতিও জানিবার দরকার হয়। যেমন, কেন ক্ষুধার্ত বাঘকে জড়াইয়া ধরিয়া ভালোবাসাদান করিতে পারিবে না। তাহাকে ভালোবাসিতে হইবে খাদ্য দিয়া, বনরক্ষা করিয়া, শিকারীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করিয়া। পাখিকে খাঁচায় পুরিয়া নিত্য দানাপানি দেওয়া ভালোবাসা নহে, আপনি ভালোবাসিলেও উহা তাহার কাছে গোলাপ-কণ্টকের ন্যায় অনুভূত হয়, বরং খাঁচাবন্দি পাখিকে মুক্তাকাশে উড়িতে দেওয়াই সঠিক ভালোবাসা। বাস্তব জীবনেও আমরা অনেকেই ভুলভাবে অপরকে ভালোবাসি, যাহার ৩টি পরিণতি হইতে পারে - নিজের ক্ষতি, ভালোবাসা গ্রহীতার ক্ষতি ও ভালোবাসা নষ্ট হইয়া যাওয়া। ভালোবাসা কভু স্বার্থ ব্যতীত জন্মে না। আমি সবচেয়ে - সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার শরীরকে, আমার মগজকে। এই শরীরই এই ব্রহ্মাণ্ডে থাকিবার পরিচয়পত্র; ইহার উপরই আমি টিকিয়া আছি। মগজই আমি, আমিই মগজ, মগজই 'আমিত্ব' তৈরি করে; তাই মগজকেও ভালোবাসি। এখানে যেহেতু শরীর একটি পরিচয়পত্র, তাই তাহাকে ভালোবাসিতে হয়। নয়তো শরীর ভাঙ্গিয়া পড়িবে, আমি বিলীন হইয়া পড়িবো। তাহার পরে ভালোবাসি আমার মাকে। তিনি আমাকে জন্ম দিয়াছেন, স্নেহ দিয়াছেন। আমিও তাহার নিকট হইতে স্নেহ পাই বলিয়া তাহাকে ভালোবাসি, তাহাকে ছাড়িয়া আমি থাকিতে পারিনা। পাঠকগণ, কঠিন ও খারাপ লাগিলেও সত্য যে পৃথিবী যে মা'কে নিঃস্বার্থের প্রতীক হিসাবে উপস্থাপন করিয়া আসিয়াছে, তাহা ভুল। মায়েরা হরমোনের প্রভাবে সন্তানকে ভালোবাসেন। আরেকটি কারণ হলো কোনো প্রাণীই বিলুপ্ত হইতে চাহেনা, তাহারা বংশধর বাঁচাইয়া রাখার মাধ্যমেই তাহাদের প্রজাতিকে পৃথিবীর বুকে টিকাইয়া রাখিতে চায়। মাতার জিন সন্তান ধারণ করে এবং মাতা অবচেতন মনে চান যেন তাহার জিন প্রজন্ম হইতে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, ফলে মাতা তাহার সন্তানকে ভালোবাসেন। আরেকটি কারণ হইতে পারে সামাজিক রীতি। যেহেতু মাতা দেখিয়াছেন সমাজে অন্য মাতার তাঁহাদের সন্তানদের স্নেহ করেন ও ভালোবাসেন। কখনো কখনো সত্যের থেকে মিথ্যা ব্যথা উপশমে বেশ কাজে দেয়, খানিকটা প্লেসিবো ইফেক্টের ন্যায়। কিন্তু এই সত্য জানিবার পরেও আমি মানতে নারাজ যে আমার মা নিঃস্বার্থ নন। আমি তাই এইক্ষেত্রে মিথ্যার ভেতরেই থাকিবার চাই। যদিও মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ ছিলো না, কিন্তু তাও আমি বলিবো ইহা অমূল্য। মায়ের ভালোবাসা যদি ৯৯% খাঁটি হয়, তবে পৃথিবীর কিংবা মহাবিশ্বের অন্য কারো ভালোবাসা ইহার ধারে কাছেও নাই। বরং আমি এই তুলনা করিয়াই মস্ত বড়ো অপরাধ করিয়াছি। আবার আমি পূর্বে যেসব উপাদানের কথা বলিয়াছি যাহাদের আমি ভালোবাসি, সেই ভালোবাসার ভেতরেও স্বার্থ আছে। উল্লেখিত বিষয়সমূহ আমাদের গ্রহেরই অংশ এবং গ্রহজুড়ে শান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাহাদের ভালোবাসিতে হইবে। এখানে স্বার্থ হচ্ছে 'শান্তিতে বাস করা', যাহা স্বার্থ হইলেও একটি উত্তম স্বার্থ। আমি রাজনীতিবিদদের পছন্দ করি না, ঘৃণা করি। তাহারা মানুষকে ভালোবাসিবার অভিনয় করিয়া যায়, কিন্তু ভালোবাসে না। ভালো না বাসা যতবড় অপরাধ তাহার তুলনায় বড় অপরাধ হইতেছে ভালবাসিবার অভিনয় করা। যদি রাজনীতিবিদেরা মানুষকে ভালোবাসিয়াও থাকে তবে তাহার স্বার্থ আছে, তবে সে স্বার্থ উত্তম কিছু নহে - তাহা হইলো 'ক্ষমতায় টিকিয়া থাকা'। তবে কোনো কোনো রাজনীতিবিদের মানসিকতা যদি পরিস্কার হয়, যাবতীয় লোভ-লালসা হইতে নিজেকে বাঁচাইয়া রাখিতে পারে এবং মানুষকে ভালোবাসে ও স্বার্থ যদি হয় উত্তম, তবে তাহাকে খারাপ বলা আমার সাধিবে না। কিন্তু এমন পরিষ্কার রাজনীতিবিদ খুঁজিয়া পাওয়া উপমহাদেশে অসম্ভব। টেলিভিশন খুলিলে, খবরের কাজ খুলিলেই এসব নোংরা রাজনীতিবিদদের চোখে পড়ে। ফলে চোখই অপরিষ্কার হইয়া পড়ে। এসব রাজনীতিবিদদের আমি ধর্মের থেকেও বেশি ঘৃণা করিয়া থাকি। ধর্ম শুধু বইয়ের পাতায় সহিংসতা ঘটাইতে বলে, যাহা নির্জীব। কিন্তু রাজনীতিবিদগণ তাহাকে জীবন নহে - ভরা যৌবন দান করে ক্ষমতার মসনদ দীর্ঘস্থায়ী ও পাকা করিতে। তাহারা উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধায়, মসজিদ-মন্দির ভাঙ্গে, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মৌলবাদ চরমে টানিয়া তোলে। মারা যায় শত-শত মানুষ, ক্ষতি হয় দেশের সম্পদের। পরিস্থিতি যখন অতি ঘোলাটে হইয়া যায়, তখন তাহারা নামে মাছ শিকারে। তাহাদের নির্বাচিত করিলে সার্বিক অবস্থার উন্নতি করিবে বলিয়া তাহারা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। অবশ্য এই কান্ড ডানেরা বেশি করিয়া থাকে বলিয়াই আমার ধারণা। বামেরা যথেষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ হয় বলিয়া এই দোষ বামেদের ঘাড়ে চাপানো যুক্তিযুক্ত নহে। আরেক প্রকারের ভালোবাসা হয় মানব-মানবীর মধ্যে। আমার কাছে সর্বনিকৃষ্ট ও বাজে লাগে এই প্রকারের ভালোবাসা। এটি তাহাদের অবচেতন মনেই জন্মায় এবং এর উদ্দেশ্য একটাই - প্রজন্ম হইতে প্রজন্মে তাহাদের জিন সঞ্চারিত করা। হ্যাঁ, ইহা কিছুটা মায়ের ভালোবাসার মতোই কিন্তু ইহাকে সর্বনিকৃষ্ট বলিবার কারণ হলো এই ভালোবাসা রাজনীতিবিদদের ন্যায় ভুয়া হইতে পারে - স্বার্থসিদ্ধির পরে এই ভালোবাসা ভাঙ্গিয়া যাইতে পারে, ফলে সমাজে নানা সংকটও জন্ম নিতে পারে। মায়ের ভালোবাসায় খাঁদ থাকিলেও তাহা কখনো ভাঙ্গিয়া পরে না। যাইহোক, পৃথিবীকে বাসযোগ্য করিয়া রাখিতে ভালোবাসিতে হইবে, ভালোবাসা নিতে হইবে ও তাহার মূল্য বুঝিতে হইবে। ভালোবাসাই পারে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে তুলিতে, যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের দাফন করিতে, দাঙ্গাবাজ রাজনীতিবিদদের বয়কট করিতে। ভালোবাসা হলো মস্তিষ্কে একগুচ্ছ রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফল। যদি এই সামান্য বিক্রিয়াকে যথার্থরূপে ব্যবহার করা যায়, তবে অসুস্থ পৃথিবী পুনঃরায় ভরিয়া উঠিবে সবুজে-শান্তিতে। অন্যথায় মানুষ হইয়া উঠিবে পৃথিবীর ক্যান্সার।

শস্য, মাঠ ও প্রকৃতি।

দৃ ষ্টিপাত হইয়াছে—মাঠ হইতে শস্য উত্তোলিত হইতেছে, কৃষকের মুখমণ্ডলে এক পরিশ্রমজাত পূর্ণ হাস্য উৎকীর্ণ রহিয়াছে। কিন্তু সেইই মাঠের গর্ভে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, মঠ নির্মাণ করিয়া কাহাকে কখনও এক দানা শস্য উৎপাদন করিতে দেখি নাই; দৃষ্টিগোচর হইয়াছে কেবল কুসংস্কারের দুর্বিষহ ভার। এই কুসংস্কার মানুষ বহু শতাব্দী ধরিয়া বহন করিয়া আসিয়াছে—মিথ্যা মানসিক শান্তির নামে, আধ্যাত্মিকতার প্রতারণাময় আবরণের অন্তরালে। দেখিয়াছি ধর্মের নামধারী গুরুগণ স্বর্ণলোলুপ হইয়া উঠিতেছেন, কৃষক, সাধারণের হৃদয় ভেদিয়া। জিজ্ঞাস্য—যে শতসহস্র নর-নারী মন্দির-মসজিদের চরণে মস্তক নত করিয়া প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকে, তাহাদের কণ্ঠনালী ক্ষুধার জ্বালায় শুষ্ক হইয়া গেলেও, সেই 'পরম করুণাময়' বলিয়া কথিত সত্ত্বা কি একটি মুষ্টি অন্নের ব্যবস্থা করিতে পারেন না? প্রার্থনার ঘণ্টাধ্বনি ও আজানের সুরে ভোজনমুদ্রা জোগায় না, জোগায় কেবল প্রতারণার সঘন বীথিকা।

"থাকলে জামাই লাগেনা কামাই" সম্পর্কে

নিচের ছবিখানি নিয়ে আমার কিছু খুচরো বক্তব্য আছে। মানুন আর নাই মানুন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিয়েই হয় মেয়েদের হালালভাবে ভক্ষণ করার জন্য, বরং মেয়েটাকে ভালোবেসে আপন করে নেওয়ার জন্য নয়। যৌনক্ষুধা মেটাতে পতিতালয়ে যাবে? ধরা পড়ে গেলেই মান ইজ্জত শেষ। তবে বিয়ে করে কি যৌনক্ষুধা মেটানো অপরাধ? আমি বলবো, মোটেই না। কেননা বিয়ের মাধ্যমেই মানবক্রম সচল থাকে, নাহলে মানুষেরও একসময় বিলুপ্ত হয়ে যেতে হবে এই নিষ্ঠুর প্রকৃতিতে। তবে এখানে আমাদের দেশের চিত্র আঁকছি, সম্পূর্ণ মানব সভ্যতার নয়। এদেশের একটি বাস্তব চিত্র হলো ১৮এর কোটা পেরুনোর আগেই মেয়ে বিয়ে দাও, নাহয় মেয়ে নষ্ট হবে, যেনা করবে, জাহান্নামী ব্লা ব্লা ব্লা...।

১৬-১৮ এর কোটায় যে সুড়সুড়ি থাকে তা আমি অস্বীকার করছি না। তবে এই বয়সে শাসন করবে অভিভাবক। মেয়েটা কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে অভিভাবক যে ধোয়া তুলসী পাতা আর সব দোষ মেয়েটার এবং "এই অনৈতিক সম্পর্ক থামাতে বিয়ে দাও" এমন কিছু মতবাদ নিয়ে আসবে কিছু সমকামী নারীলোভী মোল্লা,তবে এ বিষয়টা মানতে আমার কষ্ট হচ্ছে। বিয়ের পরে কি করবে? অপরিপক্ব জরায়ুতে বাচ্চা পয়দা করবে? আর বিয়ের পরে মেয়ে যায় শ্বশুরবাড়ি, তখন পরিপক্ক বয়সের আগে মিলনে বাধাদান আমাদের দেশে এক অবাস্তব কল্পনা। তার থেকে বিয়ে না দিয়ে যদি মেয়েটাকে চোখে চোখে রাখা হয়, তাতেই ভালো।

এখন প্রশ্ন আসবে, এখনকার ছেলে মেয়েরা বড্ড চালাক। মোবাইল নিয়ে কখন কি করে অভিভাবকরা বুঝতে পারেন না। সেসব অভিভাবকদের মুখে উচ্ছে চিংড়ি ঘষে দিয়ে বলতে চাই, তাহলে বাপু অত শখ করে বাচ্চা পয়দা ক্যান করতে গেছিলেন, যদি বাচ্চা না~ই সামলাইতে পারেন? এ ছেলে / মেয়ে আপনার, সে যতই চালাক হোক তার থেকে আপনার দ্বিগুণ চালাক হতে হইবে। আচ্ছা মানলাম কোনো মোল্লা এসে মেয়ের বাপ মাকে "ধর্মীয় নিয়ম" নামের বিষাক্ত আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে মেয়েকে এক বড় কাকার বয়সী বা দাদার বয়সী বা বড় কোনো লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে, ছেলের টাকা - পয়সা আছে! দুইদিন পরে মেয়েটাকে মতের অমিলে বা অন্য যেকোনো কারণে মেরে তেরে বের করে দিল (এমন ঘটনা বাংলাদেশে হয়নাই বা হয়না বা হবেনা এর গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। এমন ঘটনা এদেশে আগে কভু হয়নাই, এ কেউ অস্বীকার করতেও পারবে না)। সত্য কথা হলো এই, যারা বড়লোক তারা একটু গরীব ধরণের ধর্ম দিয়ে মগজ পচানো পরিবারের মেয়েই বিয়ে করতে চায়, যেন বিনামুল্যে ঝিয়ের কাজ করানো যায়, আবার রাত্রে বউয়ের কাজও করানো যায়। বিয়ে টিকে গেলে ভালো। আচ্ছা, মনে করি মেয়েটাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে, এবার কি হবে? বাঙ্গুদেশে মেয়ের অতীত হতে হবে পরিষ্কার, আগেরবার তালাক ছেলের কারনে হয়েছিল নাকি মেয়ের কারনে হয়েছিলো সেসব দেখার সময় কই(অবশ্য অস্বীকার করা যাবেনা যে ইদানিং কিছু মানুষ এসব বিবেচনা করে, খোজ খবর নেয়। তবে তার সংখ্যা খুব কম।)? ঈমানদন্ডখানা দাড়িয়ে আছে কোনো জরায়ুর সন্ধানে।

শেষমেশ অন্য জায়গায় বিয়ে হলেতো হলো, কিন্তু না হলে? এবার বাপের বাড়ী বসে আর থাকা যায়না। করবে কি? সভ্যভাবে বেচেঁ থাকার জন্য আপাতত একটা চাকরি কি জরুরি নয়? এইবার ছবির প্রথম কথায় আসি, "থাকলে কামাই, লাগেনা জামাই"। কথাটা আংশিক সত্যি। এখন নির্ভর করে মেয়েটার ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা - দীক্ষা, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ামক। যেমন মেয়েটি আগে উপরের অভিজ্ঞতার স্বীকার হলে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চাইবে না, স্বাভাবিক। আজকাল আপিস থেকে এসে ফ্ল্যাটে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে কে কার কথা মনে রাখে? টাকাই সব হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কিন্তু এটা মানবসমাজের আদর্শরূপ নয়। স্বামী চাই এমন, যে দু চারটে না জুটিয়ে মেয়েটির প্রতি প্রেমনিষ্ঠ থাকবে, আবার মেয়েটিও দু চারটে না জুটিয়ে ছেলেটির প্রতি প্রেমনিষ্ঠ থাকবে, এটাই আদর্শরূপ।

এবার আসি দ্বিতীয় কথায়, "থাকলে জামাই, লাগেনা কামাই", এ কথাও আংশিক সত্যি। এদেশে ১৪০০ বছরের ইতিহাস ধরে রাখতে কুড়িখানে বিয়ে করে না পারে সবার মন জোগাতে, না পারে চাহিদা মেটাতে, পারে শুধু ঈমানদন্ডের ব্যবহার। স্বামী একেবারে আদর্শ হলে ল্যাঠা চুকে যেত, কিন্তু স্বামীযে একেবারে আদর্শ হবে, এ কথা কে বললে? সব স্ত্রীর দিকে নজর দিতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক, বা নজর দিতে পারলেও অবহেলা বা কিপ্তেমি করলে মেয়েটা কি করবে? উপার্জন ছাড়া উপায়? এবার মানলাম সব ঠিকঠাক। স্বামীর উপার্জন আছে, স্ত্রীর দিকে খেয়াল রাখে,তবে চাকরির কি দরকার। বাড়িতে বসে বাচ্চা সামলাবে না কেন? এইবার নিয়ামক হলো স্বামীর উপার্জনের পরিমাণ ও মুদ্রাস্ফীতি। মধ্যবিত্ত পরিবার আজকের আগুনচড়া বাজারে হিমশিম খাচ্ছে, না পারে সইতে আর কইতে। আমি বলছি না যে স্ত্রী বাচ্চা সামলাবে না,মা সামলাবে না তো কে সামলাবে? বাবা কি মরেছে? হ্যাঁ, যখন টানে বা অন্য কারণে পড়ে স্ত্রীও কাজে যায়, তখন একটা ভারসাম্য করা দরকার। এমন নয় যে বাচ্চাকে বৃদ্ধাশ্রমের মত শালায় পাঠিয়ে ফুর্তি করো। কোনো মা এমন করবে বলে মনে হয়না। সুতরাং, চাকরি একটা পেলে যে স্বামী অবহেলিত বা সর্বদা স্বামীর উপরেই নির্ভর করবো, ব্যপারটা এমন নয়। বরং দরকার প্রেমনিষ্ঠ স্বামী এবং চাকরি, যেন সকল চাপ স্বামীর একার উপর দিয়ে না যায়, জীবনসঙ্গী হিসেবে কিছু চাপ মেয়েটাকে ছেড়ে দাও!

এইবার কিছু লোকের প্রশ্ন:

  • আমার ঈমানদন্ড নাই? আমি হিজড়া? উত্তর: ঈমানদন্ড থাকলেই যেখানে সেখানে ব্যবহার করা লাগবে কে বললো?

  • আমি পুরুষ বিদ্বেষী কথা কেন বললাম? উত্তর: এতে আমার দোষ নেই। সমাজে বেশি আমি যা দেখেছি, তাই বলেছি।

শেষমেষ আমি বলবো একেবারে ঘর সংসার ফেলে চাকরির বাজারে সন্ন্যাসিনী হয়ে যাও কিংবা ঘরে অভাবের ভেতরে কাটাও, এমন দুইই করিও না।

আমার কথা।

পোস্টটি আমার শিক্ষক, বড় আপু, বড় ভাইয়াদের সামনে অবশ্যই যাবে। পোস্টের মাঝে মাঝে বাংলা অশ্লীল ভাষা আছে। দেখতে না চাইলে এড়িয়ে যাবেন। আমার আচরণকে দুষবেন না। অনেক কষ্টে, রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে এই পোস্টটি মার্কডাউনে টাইপ করতে বসেছি।

• "ধর্ম হচ্ছে নিজের অপকর্মকে জায়েজ করার ঐশি বর্ম" -- ওয়াশিকুর রহমান বাবু। হঠাৎ উপরের কথা লেখার কারণ? কেননা আমার একসময় একটা সুন্দর পরিবার ছিলো। গল্পটা শুরু থেকেই শুরু করি: আমার জন্ম বরিশালে। শিশু মনে আমার প্রথম চেতনা আসে ২০১০-২০১১ সালের দিকে। আমরা থাকতাম ঘোষের বাড়ি এলাকায়, হুমায়ূন নামক একজন ছিলেন সেই বাসার মালিক,আমরা তাকে হুলো বেড়াল বলতাম পেছনে পেছনে। মা, বাবা আর আমি। দিনকাল সব ভালোই যাচ্ছিলো। প্রতিদিন সকালে আম্মু পড়তে বসাতেন, রান্না করতেন। বাবা ছিল কলেজের প্রফেসর। তিনি কলেজে যেতেন। আম্মু আমাকে খুব ভালোবাসত। আমার কিছু বন্ধু ছিল; যেমন অমিত, ঋতু মনি, প্রযুক্তা দিদি, তৌকি (অবাক করা বিষয় হলো আমি যেবার নার্সারিতে,সেবার অমিত ক্লাস ফাইভে! তাও কিভাবে যেন আমার বন্ধু ছিল। আজও তাকে ভুলিনি। বানারীপাড়ায় গেলে পথে ঘাটে, সেই পুরোনো মাঠে ওকেই খুঁজে ফিরি!) আমাকে একা বাইরে খেলতে যেতেও দিতো না। অবশ্য আমি এ নিয়ে অনেক মন খারাপ। তবে বিকেলে আম্মু আমায় নিয়ে সামনে বালুর মাঠে যেতেন (সেসব মাঠ এখন দূষিত দালানে পরিপূর্ন)। রাত্রে সবার সঙ্গে টিভি দেখতাম। যদিও আমি সারাদিন টিভিতে CN দেখতাম। সারাদিন BEN 10, বা Tom & Jerry দেখেই দিন কাটতো। বাবা দেখতে চাইতেন শুধু খবরের চ্যানেল, আর আমি শুধু কার্টুন। রাতে মাঝে মাঝে "হঠাৎ ৩৭ বছর পর" আসতো, আজিংকিয়ার চিহ্ন ছাড়া কিছুই বুঝতাম না।আমার হাতেখড়ি হয় বানারীপাড়ায়। আমাকে পড়াতে আসতেন রায়েরহাট থেকে একজন হিন্দু ম্যাম।তিনিও আমাকে খুবই ভালোবাসতেন। আমি আজও তাঁকে ভুলিনি। উনি বেচেঁ আছেন কি নেই, আমি জানিনা; তবে ওনার সঙ্গে দেখা করার খুব ইচ্ছে। আমায় ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় "রেডসান প্রি ক্যাডেট স্কুল"এ। যদিও আমার প্রথম স্কুল ছিলো "এস এস প্রী ক্যাডেট স্কুল"। সেসব স্কুলের সামনে দিয়ে হাঁটলে আজও বুকে হাতুড়ি পেটা করে, কখন আমার ডাক পড়বে হাজিরায়! আমার আরেক বন্ধু ছিল, ফাহিম। নার্সারিতে পরিচয়, নার্সারিতেই শেষ (Redsun স্কুলে)। ওর বাবার দোকান ছিলো স্কুলের সামনে। ওর বাবা আমায় একটা স্টিকার দিয়েছিলেন টিয়া পাখির, অনেকদিন সেই স্টিকার আমি গোপনে যত্নে রেখেছিলাম । যাইহোক, আম্মু কলেজ শাখায় আবেদন করলেন চাকরির জন্য, হয়নি। কেননা তখন আওয়ামীলীগের যুগ ছিল, আর আমার কাকারা সবাই বিএনপি করতো। তারপরে এক ভোররাতে, বানারীপাড়ার সব বন্ধু বান্ধব, শৈশবের স্মৃতি ছেড়ে আম্মু আমি আর ছোটভাই রওয়ানা দেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। তখন আজন্ম আর বানারীপাড়ায় ফিরবো কিনা জানতাম না। গ্রামে একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আম্মুর চাকরি হয় সহকারী শিক্ষক হিসেবে। আমি ছিলাম আম্মুর নেওটা। আম্মু মারতো, আবার খুব ভালোবাসত। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ফাইভ উত্তীর্ণ হয়ে আম্মুর স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই। ক্লাস ফাইভে আমি আম্মুর ইচ্ছামত নম্বর পাইনি বলে আমাকে সেদিন আম্মু অনেক মেরেছিলো। যাইহোক, আমি মাঝে মাঝে "কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স" পড়তাম। হঠাৎ একদিন ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি পাই।আম্মুর ইচ্ছামত আমি ভর্তি পরীক্ষা দেই বরিশাল ক্যাডেট কলেজে, ২০২১ সালে। ক্যাডেট কলেজে আমার স্থান হয়নি, কেননা আমি অত মেধাবী নই (অনেকেই আশানুরূপ ফল না পেলে সিস্টেমকে দোষ দেয়,আমি তেমন দেই না। কোনো কারণে ব্যর্থ হলে আমি নিজেকেই দুষি। এতে ওই সিস্টেমের বিপক্ষে লড়ার সক্ষমতা বাড়ে।) আমি যখন বরিশাল ক্যাডেট কলেজে পরীক্ষা দিয়েছিলাম তখন আম্মু ডাক্তার দেখিয়েছিল, আম্মুর রক্তে আয়রন কমে গিয়েছিল। ফলে ডাক্তার ৫টা আয়রন স্যালাইন দেয়। বাড়িতে এসে আম্মু সেসব আয়রন স্যালাইন দেয়। কিছুদিন ভালোই কাটে, তারপরে আম্মুর হয় জ্বর। সে কি জ্বর! বাবাকে বলতাম প্লিজ ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো। বলে রাখি, আমার বাপ খুবই কিপটে স্বভাবের। আমার বাপ আম্মুকে খুবই চাপের মধ্যে রাখতো সর্বদা। একটু পান থেকে চুন খসলেই আম্মুকে নানা কথা শোনাতো। গায়ে হাত দিত না, কিন্তু গায়ে হাত দেওয়ার বাকিও রাখতো না। আমার বাবা তাকে ডাক্তার দেখায়নি। প্রায় মাসখানেক কেটে যায়। আমি ক্লাস সেভেনের Assignment করতাম পাশে রেডিও চালিয়ে। ততদিনে ঢাকাসহ নানা বিভাগীয় শহরে কোভিড এসে জেকে বসেছে। আম্মুর আরো নানা স্ত্রীরোগ হয়। শেষমেশ বাবার সঙ্গে অভিমান করে আম্মু ঢাকায় আমার খালার বাসা মোহাম্মদপুরে আসে একা একা ডাক্তার দেখাতে। বাবা শুধু টাকা পাঠাতো। আম্মু একজন হেমাটোলজিস্ট ডাক্তার দেখান। সে ডাক্তার নাকি আমার নানাবাড়ি অঞ্চলের ছেলে ছিল। ব্লাড টেস্টে দেখা যায় আম্মুর রক্তে আয়রন বহুগুণে বেড়ে গেছে। ঐযে বরিশালের ডাক্তার ৫টা আয়রন স্যালাইন দিয়েছিল, লাগত ২টা, কিন্তু দিয়েছিল ৫টা। ওই হেমাটোলজিস্ট একটা স্যালাইন লিখে, যেটা সারাদিন বসে ওনার ক্লিনিকে দিতে হতো। শেষদিন ওখানে একজন করোনার রোগী আসে। যদিও ওই ক্লিনিকে করোনার চিকিৎসা নেই। সেখান থেকে আম্মুর কোভিড হয়। পরে আম্মুকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আমি সেখানকার নার্স এবং ডাক্তারদের নিষ্ঠুর আচরন প্রত্যক্ষ করি।(আমি যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় কখনো কোনোভাবে আসি, জোসেফ স্ট্যালিনের মতো সরকারি ডাক্তার আর নার্সদের শায়েস্তা করবো। ওরা সরকারি হাসপাতালে যেমন আচরণ করে, আমিও ওদের সঙ্গে ঠিক তেমনি আচরণ করবো। বেতন খানিকটা বাড়াব,তারপরেও কথা না শুনলে কপালে দুঃখ আছে।) আম্মু ভর্তি হয় ৩১/৩/২০২১ তারিখ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল এর দ্বিতীয় তলায় ২১ নম্বর বেডে। আমি ১৪ বছরের বালক মাত্র তখন। কি আর বুঝবো। আমাকে বলা হলো যেন একটা কোভিড সার্টিফিকেট নিয়ে আসা হয়। আমি ঢাকার অলিতে গলিতে ঘুরে একখানা সার্টিফিকেট জোগাড় করি(সে আরো কাহিনী)। এরপর তারা আম্মুকে COVID specialist সেকশন এ ট্রান্সফার করে। ততদিনে আমার মামা ঢাকা এসেছে। মামা রুমের বাহিরে একটা তোষক পেতে শুত। আমার কাকার বাসা থেকে খাবার আর টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো (আমার এক কাকা ঢাকায় থাকেন, সেখানে একটা গবেষণাগারে GIS এর চাকরী করেন)। আমি তখন খালার বাসায় বন্দী। একদিন খবর পেলাম আম্মুকে আইসিইউতে নেওয়া হবে। সেদিন আম্মুর সঙ্গে আমি কথা বললাম ফোনে। আম্মুর খুবই শ্বাসকষ্ট ছিলো, করোনা তার ফুসফুস নষ্ট করে ফেলেছে। আমি সেদিন আম্মুর সঙ্গে ফোনে "আম্মু আম্মু" বলে খুব কাঁদলাম। সেইইই আমার শেষ কথা। আম্মু ২৬/৪/২০২১ তারিখে রাত ৮টায় মারা যান। আমি পরে ভেবে দেখেছি, আমার বাপ আম্মুকে মানসিকভাবে অনেক দুর্বল করে দিয়েছিলো। সে যদি আগেই টাকার দিকে না চিন্তে ডাক্তার দেখাতো তবে ঢাকা যেতে হতো না। আর কোভিডও হতো না। আম্মুর সঙ্গে যে কি কুকুরের মত আচরন করত আমার বাপ, তাতো আমি প্রত্যক্ষ করেছি। করবেই না কেন, বউ গেলে বউ বাপে। ইস্লামে তো অসীম পরিমাণ বিয়ের অনুমতি আছে। ক্লাস ৫-৬-৭ এ আমার উপর থেকে কি মানসিক চাপ গিয়েছে, তা কোনো তৌহিদি জনতা দেখেনি, বুড়ো বয়সেও কেউ এত স্ট্রেস নেয় না। আম্মু মারা যাওয়ার পরে আমার বাপ কয়দিন হাউ হাউ নাটক করে কেঁদে খালাস। মনে আবার সিঙ্গেল সিঙ্গেল বাতাস বয়। ৪-৫ মাস পরে নানা দিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। আমি হতবাক! আমার মা মারা যায়নি ৬ মাসও হয়নি; ঘটক আসা শুরু। আমার ইচ্ছে হতো মাদারকচা (একপ্রকার কন্টকযুক্ত গাছের ডাল) দিয়ে পিটিয়ে ভাগিয়ে দেই। এভাবে করতে করতে বাপ আমাকে আর ছোটো ভাইকে নিয়ে কর্মস্থল ঝালকাঠিতে আসে। আমাকে আমার আম্মুর স্কুল থেকে নিয়ে এখানে ভর্তি করে, আমি সেবার ক্লাস এইটে। আম্মু মারা যাওয়ার পরেও আমি ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছিলাম। এইখানে এসে আবার বিয়ে করে আমার বাপ। আমি শুনতাম, ঘটকের থেকে নম্বর নিয়ে সেই মেয়েকে ফোন দিত রাতে রাতে। আমরা ঘুমিয়ে পড়লে ব্যালকনিতে গিয়ে সব অশ্লীল কথা শুরু হতো ফোনে। আমি চুপি চুপি অন্য রুম থেকে ব্যালকনির পাশে গিয়ে মতলব শুনতাম, কি কি বলতো আমি আর লিখতে পারছিনা। আগে থেকেই আমার বাপের বিরুদ্ধে একটা ক্ষোভ, রাগ ছিল। সেদিন সেটা পূর্ন হলো। প্রায় প্রতিদিনই অশ্লীল কথাবার্তা বলতো (সেসব না বলি। তবে পাঠক, কমেন্ট বক্সে জানতে চাইলে জানাবেন, বাইনারিতে কনভার্ট করে দিবো)। ওদের বাচ্চা হলে কিভাবে পালবে, আমাদের কিভাবে রাখবে, ব্লা ব্লা ব্লা... আমার বাপ নিজে কভু ফোনে একসঙ্গে ২০০টাকা একসঙ্গে ফ্লেক্সিলোড করেনি। সেই মেয়েকে সেই রাত ১০-১১ টায় বাজারে গিয়ে ২০০ - ২৫০৳ ফ্লেক্সিলোড দিত (প্রমাণ? আমি ব্যালকনিতে বলতে শুনেছি যে দাড়াও, তোমার ফোনে ২০০৳ পাঠাই,বলে দরজা খুলে বাইরে যেত। নিচেই ছিল দোকান। আমি পরে দোকানিকে জিগস করেছি কাল রাতে কত টাকা নিয়েছে? দোকানী বলে ২০০৳!), আমার মাকে মেরেছে কিপটামি করে, আর তখন টাকা নিয়ে লুতুপুতু করতো। রাত্রে লুতুপুতু করত আর দিনে এসে আমাকে বোঝাত, কেন তার বিয়ে করা জরুরি? রান্না করবে কে? ঘর সামলাবে কে? ভালো ভালো খেতে না পেলে চলবে কিভাবে? ওদের নবীর ১১ বিয়ে, সেতো আর ১১ জন একসঙ্গে রাখছে না। আমি তার বিয়েতে একমত কিনা? আমি চুপ করে থাকতাম, কোনো উত্তর দিতাম না। আবার এসে আমার সামনে কাঁদতো (নাটক), বলত আমার আম্মু আর ফিরে আসবে না। এমন ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করত। পাঠক, আপনারা ভাবতে পারেন? আমি ১৫ বছরের কিশোর, আমার এইসব সামলাতে হচ্ছে তখন। স্কুলে (উত্তর সরালিয়া সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়) দেখতাম সবাই হাসিমুখে থাকে, খেলে, মজা করে। আমিই একমাত্র অস্বাভাবিক বালক ছিলাম, যে কিনা শেষ বেঞ্চে বসে চোখ নামিয়ে থাকতাম। না ছিল মুখে কথা, না ছিল হাসি।

শেষমেশ বিয়ে হলো। বিয়ের ঘটক ছিলো তার কলেজের আরেক প্রফেসর (নজরুল ইসলাম স্যার সম্ভবত। সম্ভবত বলার কারণ এই কাজে আরো অনেকে ছিল।) ১ লাখ টাকার দেনমোহর দিয়ে বিয়ে হয়! তারপরে আমার সঙ্গে অনেকেই অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছে। আমার চাচা , ফুফা.... আমি তাদের সামনে নানা কথা শুনে আজ পর্যন্ত দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছি। তারা আমার মামা বাড়ী নিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছে। তাদের ধারণা, নতুন বিয়ে করতে আমার মামা বাড়ির লোকজন নিষেধ করেছে এবং আমার ব্রেন ওয়াশ করেছে। আজব! তাদের সঙ্গে আমার রেগুলার যোগাযোগ ছিল না। বরং আমিই চাইতাম না বিয়ে হোক। বিয়ের দিন রাত্রে বউ তুলে এনেছে। আমি বাসায় একা ছিলাম, একমাত্র আমিই যে বউ তুলে আনার আনন্দ চোদাতে যাইনি। ইয়া বড় মাইক্রো, হেভি গয়না গাটি। এসব দেখে আমার রাগ তুঙ্গে, মনে মনে বলি "মাদারচোদ, তুই কিপটামি চুদিয়ে আমার মাকে মারলি। এখন আবার নতুন মাগী জুটিয়ে চুদুর বুদুর চোদানো হচ্ছে??" সেদিন রাত্রে পোলাও হয়, বিরিয়ানি,মাংস, গরুর মাংস, ডিম, দই আরো নানা পদ। আমার নিজের চাচা, আরো কলেজ প্রফেসররা এসে পেট পুরে গিলে ঢোল বানিয়ে বসেছেন। ভাড়া বাসা, সেথায় আসে বউয়ের ভাই বউ, ২ ভাই, আরো আরো অনেক আত্মীয়। আমি আমার রুমে লেপ মুড়িয়ে শোয়া। আমাকে খাবার জন্য ডাকা হলো। যেতে না চাইলেও গেলাম, আমার গায়ে ছিল এক সাদা সোয়েটার মাথা, চোখ ঢাকা। শুধু অ্যাডামস অ্যাপেল আর মুখ দেখা যাচ্ছিল। আমাকে হাসানোর জন্য ওখানে অনেক মহিলা অনেক চেষ্টা করেছিল। না আমার মুখ নরেছিলো,না কোনো কথা বলেছিলাম, না টুপি সরিয়ে তাকিয়েছিলাম। সেজে কি কঠিন সময়! নানা জনের নানা কথা শুনে দুই মুঠো খেয়ে এসে লেপের নিচে ঢুকি। আমি সেই বউকে না কখনো দেখেছি, না কথা বলেছি। সারাদিন মনে করতাম, কবে এদের তালাক হবে, কবে এদের তালাক হবে। আমি কারো সঙ্গে কথা বলতাম না। প্রায় ১-১.৫ মাস পরে সেই বউ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসে। বেশ ভালো। বউয়ের সঙ্গে তার ছোট ভাই আসে, নাম তার প্রিন্স(শুনেছি সে শয়তান কোম্পানিতে চাকরি করত)। কোনো একদিন সন্ধ্যায় আমার বাপ আর ছোটভাই বাজারে যায়। আমি, সেই বউ আর তার ভাই প্রিন্স ঘরে। প্রিন্স সেই রাতে বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে। নানা বিষয়ে খুঁত ধরা শুরু করে, যেমন ঘরের ওইপাশে ধুলা, ওই পাশ নোংরা ইত্যাদি হ্যান ত্যান। এর মধ্যে আমার রুমের সামনে ( গ্রামের বাড়িতে, মানে দাদার বাড়িতে আমার একটা রুম বরাদ্দ আছে) এসে বলে "তোমার মা (আমার মরা মা, ওই বউ না) পরিষ্কার রাখত না বাড়িঘর?" সেইদিন আমার ইচ্ছে করেছিল দা ছুঁড়ে ওই মাদারচোদকে খুন করতে। মাদারচোদ একেতো বোন এখানে বিয়ে দিয়ে আমার শত্রু হয়েছে, আবার আমার মরা মাকে বদনাম করচে। সেদিন আমার ঠোঁট কেটে রক্ত পড়েছিল, হ্যাঁ এটা সত্যি। সেদিন আমি ঠোঁট কামড়ে ধরেছিলাম, কিছু গালাগাল দিলে আমার আম্মুর নামেই দুর্নাম রটবে। বলবে অমুক তো অনেক ভালো, ছেলেটা কেমন হলো।

(পাঠক, আমার আম্মুর গুণগান করছি না; সত্যই বলছি। আমার আম্মু যেমনি ছিল ধার্মিক, তেমনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। তিনি আমাদের পানি পর্যন্ত ফুটিয়ে খাওয়াতেন, বিনা কারণে রোজা কিংবা নামাজ বাদ দিতেন না। চাকরি করতেন ঠিকি,কিন্তু কোনোদিন বোরকা ছাড়া বাড়ির সীমানা অতিক্রম করেননি। আম্মু কোনোদিন স্থানীয় বাজারে বাজার করতে যাননি। এলাকায় আজও আম্মুর নামে অনেক সুনাম, আজও কোনো মানুষ তাঁর নামে একটা খুঁত ধরতে পারেনি।) এরপরে বহুদিন কেটে যায়। তখন মার্চ, ২০২২। কিভাবে কিভাবে যেন মনোমালিন্য হয়। সেই বউয়ের দাবি তাকে ওই বানারীপাড়া এলাকায় বাড়ি করে দিতে হবে। এমন এমন আরো ঝগড়া হয়। সে নাকি গ্রামে থাকবে না। আস্তে আস্তে ঝগড়া বাড়ে। সে বউ বাপের বাড়ি চলে যায়। তার ভাইয়েরা ওই এলাকার ডন বলা চলে। ফোন করে রাত্রে গালাগালি দেয়😂। বিয়ের সাধ মিটিয়ে কয়েকদিন পরেই আবার ওখানকার বাসা ছেড়ে আগের গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। আমি আবার আম্মুর সেই স্কুলে ক্লাস এইটে যাওয়া শুরু করি। কোর্টে কেস হয়, তারপরে তালাক হয়।

এরপরে বহু ঘটক এসেছে,গিয়েছে আমার বাপ রাজি হয়নি। তার লাগবে আমার আম্মুর মত নরম মেয়ে (না হলে এমন লোকের ঘর করবে কে?) এর মধ্যে আমার ব্রেন ওয়াশ কিন্তু কম করা হয়নি। আমার ২চাচা, ১ ফুফু বেচেঁ আছে। একদিন ফুফুর স্বামী অসুস্থ বলে আমাকে ডাকে তাদের বাসায়। আমার বাপও সেখানে নিয়ে যায়। ব্যাপারটা আমি আঁচ করতে পেরেছিলাম। সেদিন তাদের বাসায় নিয়ে আমাকে টানা ৪ ঘণ্টা ব্রেন ওয়াশ, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল, নানা বাড়ি নিয়ে নানা আজেবাজে নোংরা কথা বলতে থাকে। সারমর্ম, কালকে আমার বাপের আরেকটা বিয়ে অনুষ্ঠান আছে, আমি থাকবো কিনা উপস্থিত? আমি বলি "দেখি~"। ওই ৪ ঘন্টায় আমি ওই প্রথমবার ও শেষবার কথা বলেছিলাম।

পরেরদিন সন্ধ্যায় দেখি আমার বাপ খোস মেজাজে জামাই ড্রেস পরে আমার ছোট ভাইকে নিয়ে উপজেলায় ফুফুর বাসায় গেলো। বললো রাত্রে একা থাকতে হবে। মন খারাপ থাকলেও একটু খুশি হই যে একটু নীরবতা পেলাম (পাঠক, আমি একা থাকতে খুবই ভালোবাসি। সঙ্গী হিসেবে আমি কোনো মানুষ চাই না। আমি কল্পনায় চরি হিমালয়, ডুবি মারিয়ানা ট্রেঞ্চে। কল্পনায় আমি থাকি বইয়ের পাতায়, কখনো আবার আমার জগতে)। ভেবেছিলাম পরেরদিন হয়ত বউ নিয়ে উঠবে। না, পরেরদিন সকালে দেখি সিঙ্গেল এসে হাজির। কোনো বউ নেই, বিয়েও হয়নি। শুনেছি সেদিন নাকি আমার ফুফু, বাপ, চাচা আড্ডা বসিয়েছিল। এমন তারা আগে কখনো করেনি। সেদিন বিয়ে নাকি ভেঙ্গে গেছিলো, কেননা মেয়ে নরম ছিল না। অবাক হই। আমি আড্ডার বুঝেছি বিষয় কি ছিল, আমাকে কিভাবে হ্যান্ডেল করবে? এটা আমি নিশ্চিত হয়েছি এভাবে: আমার ফুফুর মুখ পিছলে এই কথা একবার বেরিয়ে গিয়েছিলো। মাঝে মাঝে নিজেকে ডন মনে হয়। রাশিয়ায় পুতিনকে টেক্কা দিতে NATO র ঘাম ছুটে যায়, তেমনি আমাকে টেক্কা দিতে তাদেরও ঘাম ছুটে যায়!

সে বিয়ে হয়না। এর মধ্যে আমি গ্রামের বাড়িতে একা থাকতাম। আমার বাপ আর ছোট ভাই থাকতো ঝালকাঠি। যখনই দরকার আমাকে ব্রেন ওয়াশ করার দরকার হতো, শুরু হতো এভাবে যে আমার আম্মু আর ফিরে আসবে না। এখন আমার বাপের রান্না, খাওয়া, সংসার সামলানোর জন্য আবার বউ লাগবে। আবার বিয়ে করাটা অপরাধ না , ওদের নবী ১১ বিয়ে করেছে ব্লা ব্লা ব্লা। সেই থেকেই আমি একটু একটু নাস্তিকতার দিকে আসতে থাকি। আম্মু যখন সোহরাওয়ারর্দীতে, আমি প্রতি নামাজে প্রার্থনা করতাম যেন বাঁচিয়ে নেয়। কুরআন পাঠ, নামাজ, রোজা,১৪ বছর বয়সী বালকের কাছে সম্ভব এমন সব কিছু করেছি। তবে আমার বুঝতে দেরি হয়ে গেছে, কার কাছে প্রার্থনা করছি, কোনো কাল্পনিক মাসকটের কাছে? তার উপরে আম্মু মারা যাওয়ার পরে আমি যে আত্মীয়ের বাসায়ই যেতাম না কেন, ওই একই কথা দিয়ে শুরু করতো। ৩-৪ ঘণ্টা একই কথা।আজকাল যতটা পারি আমি সবাইকে এড়িয়ে চলি; কবে আবার একই ভাঙ্গা রেকর্ড বেজে উঠবে, কে জানে?

কিছুদিন আগে আমি আলমারিতে যে বস্তু দেখেছি, তাতে আমি লোম দাড়িয়ে গিয়েছে। বস্তুটি যে অতিশয় দানবীয়, ভয়ানক তেমন নয়। প্রায় প্রতি ঔষধালয়ে তাকে পাওয়া যায়। সেটা দেখে আমার মনে বিষ অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। এই পোস্টটি সুশীল সমাজে বহুল চর্চিত হবে বলে অশ্লীল নামটুকু বলছি না। যেখানে চিন্তার সীমা শেষ হয়, সেখান থেকে চিন্তন শুরু করলেই নামটি পাওয়া যাবে। গেলোবছর ডিসেম্বরের দিকে বোধহয় শীতকালীন ছুটি পেয়ে ঝালকাঠী থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে আমার বাপ। মনে হয় মনে মনে পণ করে এসেছিলো,এবার শীতে নিকে করেই ছাড়বে। এসেই তার বোনকে (ফুফু, বড়ই শয়তান মানুষ। ধর্মের যাঁতাকলে পেষা এক নিখুঁত নারী। মার্ক্সের বলা আফিম উনি একাই খেয়েছেন বলে মনে হয় আমার। আমার জীবনের এক বড় দুর্জন।আমার বাপের সঙ্গে তার গলায় গলায় খাতির।) ফোন দিয়ে নানা দিকে আগের থেকে তড়িঘড়ি মেয়ে দেখতে বলে। আমার তখন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের কোচিং চলছিল। ঠিক হলো ২০ ডিসেম্বর বিয়ে। ওইদিন ছিলো শুক্রবার, ফলে কোচিং ছিল বন্ধ। স্বভাবতই আমি জানতাম আজকে জামাই সেজে যাওয়া হবে, কেননা আগের দিন আবার নবীর ১১ বিয়ে নিয়ে ব্রেন ওয়াশের চেষ্টা চলেছে। আমি কোনো কথা বলিনি। সেদিন সকালে যাওয়ার আগে কেঁদে কেঁদে নাটক করে বললো তার সারকথা এই যে ভালোর জন্যই বিয়ে করছে, বিয়ে না করলে মরে যাবে। অন্তত নারীদেহ লোভী হলে মরে যাওয়ারই কথা। এ নিয়ে ঠিক ১ বছর আগে আমি পোস্ট দিয়েছিলাম। পরে কোনো শুভাকাঙ্খী বাড়িতে সেই পোস্টের কথা জানিয়ে দেন,ফলে পোস্টটি আমার "Only Me" সেট করে দিতে হয়। সেই ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ এর বিয়ে আজও আছে। প্রায় বছর ঘুরতে চললো। আমি অপেক্ষায় আছি, কবে এদের তালাক হবে। কিংবা আমার হাতে ক্ষমতা আসবে। এই বছর কুরবানীতে আমার সেই GIS কাকা ঢাকা থেকে আসে। এসেই আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে যেন আমি এই বউকে "মা" বলি (ইসস, যেন "মা" শব্দটি এতই সস্তা। এই শব্দটির ব্যবহার যে সন্তান জানেনা সে সন্তান, সন্তান হওয়ার যোগ্যতা রাখে না)। আমি এবার মুখ খুলি, বলি, "কাকা, দেখুন; সবার মনেই একটা গোপন জায়গা থাকে। আমার পেছনে কত ডার্ক সিক্রেট আছে আপনি জানেন না। আবার আপনার পেছনেও কত ডার্ক সিক্রেট আছে আমি জানি না। আমার মনেও কিছু কষ্টকর জায়গা আছে, আপনারও আছে। সুতরাং এ কথা না বলি"। এর পরেও সে আরো নানা যুক্তি দেখালো। আমি চুপ রইলাম।

এ বছর জুলাইতে যে মাইলস্টোন ট্রাজেডি হয়, তার দুইদিন পর আমি ঢাকা যাই। গিয়ে সেই GIS এ কর্মরত কাকার বাসায় উঠি। সেখানে গিয়ে সেই একই কলের গান। এই বউকে যেন মা হিসেবে মেনে নেই। আমি কোনো কথা বলিনি। রবীন্দ্রনাথের সুভা যেন আমি, পার্থক্য সুভা মেয়ে; বোবা শুধু জন্মগত। আর আমি বোবা এই ইসলামিক শান্তিপ্রিয় চোদাচুদি পাগল সমাজের রক্তচক্ষুর চাপে। শুভা মেয়ে,আর আমি ছেলে। আমার মানসিকতা: মা শুধু একজনই হয়। সে মা যতই খারাপ কিংবা যতই ভালো, আমায় যে নারী গর্ভে ধরেছে, সেই আমার মা। সে নারী পতিতালয়ের কীট হোক, কিংবা রাজরানী; কোনো দ্বিমত নেই। মা হওয়া সহজ না।

এইবার পাঠকদের কিছু প্রশ্ন থাকতে পারে:


১) স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে পুরুষ আবার বিয়ে করতেই পারে। নবী ১১ বিয়ে করেছে। দোষ কি? আমার ঘরে রান্না বান্না লাগবে না? উত্তর: এতো সুশীলতা চোদাইয়েন না। আপনাদের কথা অনুযায়ী সেই ১১ বিয়ে নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করতে হয়েছে। তাইলে বাংলাদেশের এক বাঙ্গুর কি এমন সেই সমস্যা যে ১১ বিয়ে করা লাগবে? আর আমার কনটেক্সটে বিয়া করবে খালি রান্না-বান্নার জন্য না। লাগবে অগাধ প্রজনন। রান্না বান্না শুধু সুশীল উদাহরণ। ঐযে বলেছিলাম না ব্যালকনির কথা আমি অন্য রুমে গিয়ে শুনতাম? আপনি সেই কথা কি শুনেছেন?


২) এখনতো নিকে করেছে। আমার জ্বলে কেন? উত্তর: আগেই বলেছি। ওদের লাগবে অগাধ প্রজনন, আর আমি স্বভাবতই এর বিরুদ্ধে।


৩) ইসলামে তো ৪ বিয়ে অনুমতি দেয়া আছে। আমি মানছি না। আমি কি নাস্তিক? ইসলাম অবমাননা করছি? ইসলামফোবিয়া?? উত্তর: হ্যাঁ,আমি আজ থেকে নয়। আমি আরো আগে থেকে নাস্তিক। শুধু প্রকাশ করিনি, তাহলে কল্লা থাকতো না। আর হ্যাঁ,আমি এমন নাস্তিক নই যে ইসলাম সম্পর্কে দুটো কথা বলে পুজোয় যাবো, কিংবা প্যাগোডায় গিয়ে ধ্যান দেখবো। আর হ্যাঁ, আমি শুধু ইসলাম নয়, সব ধর্মই অবমাননা করছি।


৪) নাস্তিকতা!! কত খারাপ জিনিষ! বালক, তুমি বোধহয় ঘুমের ঘোরে পোস্ট লিখেছো, তবা করে মুসলিম হও। উত্তর: এই পোস্ট লিখতে আমার ১ দিনের কিছু বেশি লেগেছে। গুগল নোটস আর কোড এডিটরে ফেলে Gboard দিয়ে টাইপ করেছি। তারপরে ফেসবুকে আর আমার ব্লগে পোস্ট করেছি। আমি কোনো ঘোরে নেই। সব জ্ঞান থাকা অবস্থায়ই বলছি।


৫) তুমি শুধু মাকে হারিয়েছ, তাই নাস্তিক হলে। প্রাক ইসলামিক যুগে কত মানুষ পরিবার হারিয়েছে,তারাতো নাস্তিক হয়নি। উত্তর: তারা পরিবার হারিয়েছে কেউ যুদ্ধে, বা দুর্ঘটনায়। কিন্তু আমার মাকে হারিয়েছি কৃপণতা, বহু বিবাহের রীতি প্রচলিত থাকায়। তারা কি করেছে পরিবার হারিয়ে জানিনা। কিন্তু আমি আমার মাকে আমার থেকেও বেশি ভালবাসতাম। ঠিক আছে মারা গিয়েছে। কিন্তু যে ধর্ম আমার মায়ের জায়গা অন্য নারী দিয়ে পরিবর্তন করতে চায়, সে ধর্মকে মদ্ধাঙ্গুলী দেখাই।


৬) তোমার পোস্টে দেখেছি তুমি কার্ল মার্কসের বই পড়েছ। তুমি বাম হয়ে গেছো। বামেরা নাস্তিক, তাই তুমিও নাস্তিক হলে। উত্তর: হ্যাঁ, মার্ক্সের বই আমার কাছে আছে। কিন্তু সেসব পড়ে আমি তেমন কিছুই বুঝিনি। যদি একজন গুরু পেতাম, তাহলে বুঝতাম। বামের বিষয় হলো, বামের ম্যানিফেস্টো আমার ভালো লাগে। কিন্তু সঠিক বাস্তবায়নে ব্যর্থ বলে পুরোপুরি বাম ভালো লাগেনা। কিন্তু মার্ক্সের বই পড়লেই যে বাম হবে, এ নিয়ে আমার আপত্তি। গীতা পড়লেই কেউ আদর্শ হিন্দু, কিংবা কোরআন পড়লেই কেউ আদর্শ মুসলিম হবে সে কোথায় কে বলে?


৭) তোমার পোস্ট অনেক আগে থেকেই দেখেছি। টেক জগতে এসে তোমার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। তুমি নাস্তিক বলে তোমাকে ব্লক করলাম। উত্তর: আপনার ইচ্ছাই শিরোধার্য! ব্লক করার আগে পড়ে নিন, "টেক ফিল্ডে আসার জন্য আমি আম্মুর বড় হাত ছিল। তিনিই প্রথম আমাদের পরিবারে চাপ দিয়ে ল্যাপটপ কিনিয়েছিলেন। সেইসময়ে ল্যাপটপ না পেলে আজ আমি টেক ফিল্ডে এতদূর আসতে পারতাম না।"। ও আর ব্লক করার আগে ব্লগ ওয়েবসাইটে আইডির নাম লিখে একটা কমেন্টে বলে যাবেন যে ফেইসবুকে ব্লক করেছেন, নাহয় আমি আবার পরে খুঁজতে চেষ্টা করবো যে অমুকের পোস্ট অনেকদিন সামনে আসে না কেন?


৮) তুমি কি আসাদ নুর কিংবা তসলিমা নাসরিনের মত হবে? উত্তর: ক্ষমা চাইছি প্রথমেই। তাদের লেখা আমি কখনো পড়িনি কিংবা তাদের মানসিকতা সম্পর্কে অবগত নই। তবে আমি এটুকু জানি, তারা নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও পুজোয় যান, ফলে বলতে পারি তারা নিখুঁত নাস্তিক নন। আমি এটুকু বলতে পারি, আমাকে কভু পুজো, গির্জা, বড়দিন বা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাওয়া যাবেনা।


৯) তুমি ইসলামফোবিক কেন? উত্তর: মুসলিমপ্রধান দেশে একজন নাস্তিকের মনে ইসলামফোবিয়া বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আবার হিন্দুপ্রধান দেশে একজন নাস্তিকের মনে হিন্দুফোবিয়া বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমি এদেশীয় মুসলিমদের থেকে যে আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি, তাতেই আমি ইসলামফোবিক। আমি কিছু মানুষকে চিনি যারা ভারতীয় কিন্তু নাস্তিক।তাদের লেখায় হিন্দুফোবিয়া আছে। এ নিয়ে আমি একজনকে চিনি। একটা ইন্টারেস্টিং কথা, আসাদ অনেক ইসলাম ফোবিক বলে তার কমেন্টে ইসলামফোবিক হিন্দুদের আনাগোনা, ভারতের বিজেপির অনেক হিন্দুদেরও কমেন্ট দেখেছ। আবার ধ্রুব রাঠির অনেক ভিডিওতে জাশির অনেকের লাইক কমেন্ট দেখেছি।


১০) তুমি কট্টর জাশি বিরোধী , তাই তুমি নাস্তিক হলে। উত্তর: আপনি জামাতি বা মনে মনে একটু আধটু জামাতি বলেই এমন কথা বলছেন। আমি নাস্তিক হওয়ার পরেও মনে করি, জামাতীরা উপরে উপরে ইসলাম ব্যবহার করলেও কখনো ইসলাম ধারণ করতে পারেনি। বরং বরাবরই কার্ল মার্কসের উক্তি "ধর্ম হলো জনগণের আফিম"কে সত্য প্রমাণ করেছে। জামাতীরা আসল ইসলাম নয় বলে আমি জামাত বিরোধিতায় অপরাধ খুঁজে পাইনা। বরং রাজনৈতীক দলের বিপক্ষে পক্ষে মানুষ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।


১১) আমার মাও মারা গিয়েছে, কই আমিতো নাস্তিক হইনি! আমার বাবাও আবার বিয়ে করেছে, আমিতো ধর্মদ্রোহী হইনি! উত্তর: প্রথমত বলি, আপনার ভাববার পদ্ধতি এবং আমার ভাববার পদ্ধতি আলাদাই হবে। আবার আপনার বাবার পার্সোনালিটি আর আমার বাবার পার্সোনালিটি আলাদা। এ নিয়ে আমি ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখের পোস্টে বলেছিলাম। পোস্টটি "Only Me" করা। পোস্টটি আমি পেলে লিংক দিয়ে দিবো।


১২) মানলাম তুমি অনেক কষ্টের ভেতর দিয়ে গেছো, তাই বলে শেষমেষ নাস্তিকতা? তবা তবা। উত্তর: হ্যাঁ। ধন্যবাদ দেই যে এই সমাজই আমায় পরোক্ষভাবে নাস্তিক বানিয়েছে। আমি ছোটবেলায় ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম, ক্লাস থ্রী কি ফোরের কথা। সেই আমি শেষমেষ ধর্মদ্রোহী হলাম। এমনি এমনি তো আর হইনি জনাব?


১৩) আমি যে নাস্তিক, ঘরের মানুষ জানে? উত্তর: না, তবে সময় হলে জানবে।


১৪) আমি নাস্তিক। তাও শুক্রবার মসজিদে কেন যাই? এটা তসলিমা নাসরিন বা আসাদের মত দ্বিচারিতা নয় কী? উত্তর: চাপে পড়ে যেতে হয়। বাড়িতে একা থাকলে যাই না। আর হ্যাঁ, দুঃখজনকভাবে, এটা দ্বিচারিতা। তবে ওনারা যান ইচ্ছায়, আমি যাই অনিচ্ছায়।


১৫) তোমার কল্লা ফেলে দিতে হবে দেখছি। উত্তর: দেখা হলে ফেলে দিয়েন।


১৬) লেখক আরিফ আজাদ না আসিফ নামে যেন এমন কেউ বলছিলো, "আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের নিগার বলা অপরাধ। সেসব রাজ্যে বাক স্বাধীনতার নামে কৃষ্ণাঙ্গদের "নিগার" কেউ বলেনা। ফলে এদেশেও বাক স্বাধীনতার নামে ইসলাম বিরোধী কথা বলাটা সেক্যুলারদের উচিৎ না।" উত্তর: ক্ষমা করবেন। আমি না ওনাদের মত না যোগ্য, না মেধাবী, না যুক্তিবাদী, না মহান। আমার কোনো বইও নেই মার্কেটে। তবে আমার কথা হলো, ইসলামের নবী রাসুল নিয়ে কটূক্তি বাদ দেন। সাধারণ ওয়াজে যে ভুল বলা সেসব বললেই তো শাহবাগে বা ঢাবিতে কল্লা নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ চলবে। মাদ্রাসায় বলাৎকারের বিরুদ্ধে কথা বললে মোল্লারা ঈমানদন্ড ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ক্ষেপে তেড়ে আসবে। আমির হামজার মিথ্যাচার, তারেক মনোয়ারের মিথ্যাচার নিয়ে যদি সামনা সামনি কিছু বলি তাইলে তো ওদের চ্যালাপ্যালারা ইসলাম অবমাননার দায়ে...।গত শুক্রবার জুমার বয়ানে ইমাম সচ্চরিত্র নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিল মানুষ হাসলে নাকি "৫০০ প্রকার ক্যামিক্যাল রিলিজ হয়।" আমি যদি তৎক্ষণাৎ ওই কথার প্রতিবাদ করতাম, তাহলে ইসলাম অবমাননার দায়ে আজকে আমাকে হয়ত কয়েদখানায় পায়চারি করতে হতো, নাহয় কল্লা পড়ে যেত!


১৭) তোমার আম্মুর মৃত্যুতে তোমার বাবার কোনো দোষ নেই। সব দোষ তোমার। তুমি "কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স" পড়ে cadet college admission না দিলে তোমার মা বরিশাল যেতেন না। ভুল চিকিৎসাও হতো না। উত্তর: ঠিক ধরেছেন। একটা ঘটনার নানা ব্রেকপয়েন্ট থাকে, ফলে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। সেইসময় ঘরের কর্তা আমার বাবা। আমি শুধু বলেছিলাম। সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল কর্তার হাতে। কর্তা রাজি না হলে বরিশাল যাওয়া হতো না। কিংবা বরিশাল গেলেও কর্তার সিদ্ধান্ত "না" সূচক হলে আম্মু ডাক্তারও দেখাতে পারতো না।


১৮) পশ্চিমা কোম্পানি থেকে কত টাকা খেয়েছো? উত্তর: বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, কেউ আমাকে একটা কানা-কড়িও দেয়নি। দেখেছনই তো ৩৯ টাকায় ১ জিবি হোস্টিং, ফ্রী SSL, ফ্রী ডোমেইন নিয়েছি ব্লগের জন্য? .xyz, .blog এসব ডোমেইন কেনার টাকা পর্যন্ত পকেটে নেই। ব্লগ ওয়েবসাইটটাও হাতে লেখা, Ai দিয়ে ডিবাগিং, ডিজাইন আর পিএইচপি লজিক উন্নত করা। পশ্চিমা এজেন্সি থেকে টাকা খেলে আমার ব্লগ খানা কোনো প্রফেশনাল ওয়েবডিজাইনার দিয়ে তৈরি করা থাকতো না? সাব ডোমেইন, .com, ওয়ার্ডপ্রেস আর নানা উন্নত ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে লেখা হত না? সেই ছোটো থেকে জমিয়ে রাখা সব ট্রমা এক এক করে আজ একট সিম্পল ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে লিখলাম। আগামী মাসে হোস্টিং কিভাবে renew করবো তাও জানিনা, পশ্চিমা কোম্পানি থেকে টাকা খেলে আজকে 'শ-হাজার জিবি হোস্টিং এবং .com, .net, .org, .blog ইত্যাদি ডোমেইনের ছড়াছড়ি থাকতো।


১৯) মা মরার শোকে তুমি পাথর হয়ে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিচ্ছো। তারা সবাই তোমার ভালো চায়। ভুলপথে যেও না। উত্তর: ক্ষমা করবেন পুনঃরায়। আমি সেইসব মতবাদকে ঘৃণা করি যারা আমার মাকে কেড়ে নিয়ে, প্রতিস্থাপন করে অন্য নারীকে। এমন মতবাদকে কটূক্তি করতে আমি দ্বিতীয়বার ভাববো না।

• শেষমেষ আমার মন্তব্য: আমার কোনো শুভাকাঙ্খী দূরলাপনি যন্ত্র ব্যবহার করিয়া আমার পিতা মহোদয়কে জানাইতে যাইবেন না, যে আমি নাস্তিক। এত সাহায্য আপনার হইতে আমি চাহিনাই। আমার সকল নামমাত্র আত্মীয় স্বজনদের আমি ফেসবুকে ব্লক করিয়া রাখিয়াছি। ফেইসবুকে আমাকে সামনাসামনি চিনিবার ক্ষমতা রাখে এমন মানুষ গুটিকতক। ফলে সহজেই আপনার প্রতি আমার সন্দেহ হইতে পারে। আপনার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা এবং আমার শান্তি আপনি নষ্ট করিতে যাইবেন না। আশাকরি পরিচিত কেহই এমনটি করিবেন না।

আমি অনেক দেখেছি, ধর্মে চোদাচুদি ছাড়া আর কোনো কথা পাইনাই। যত ভালো কথা সব উপরে উপরে। নিচে, নারীভোগ, অশ্লীলতা, ধর্মান্ধতা ইত্যাদি ইত্যাদি। সবশেষে, আমার সকল শুভাকাঙ্খীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে টাইপিং শেষ করছি।

প্রথম ব্লগ


 আমার নতুন ব্লগ 'যুক্তির কষ্টিপাথর'-এ আপনাকে স্বাগতম। এই ব্লগটি মূলত আমার চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং শেখার যাত্রাকে ধারণ করবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, আর সেই সম্ভাবনাকে উন্মোচন করাই এই ব্লগের উদ্দেশ্য।

আমি প্রযুক্তি, বই, সিনেমা আর নানা বিষয়ে আগ্রহী। সময় পেলে এখানে সেগুলো নিয়ে লিখব। প্রথম পোস্টে কিছু লেখার চেয়ে বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিশ্রুতি দিই—আমি নিয়মিত লিখব, এবং লেখাগুলো যেন আপনারও কিছু কাজে লাগে, সেটার চেষ্টা করব।

আমার বিশ্বাস, জ্ঞানের কোনো শেষ নেই। আমরা যতই জানি, ততই বুঝতে পারি যে আরও অনেক কিছু জানার বাকি। এই ব্লগটি হবে সেই জানার এবং শেখার একটি ছোট্ট প্রয়াস।

আপনার কোনো মতামত, পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আপনার প্রতিটি প্রতিক্রিয়াই আমাকে আরও ভালোভাবে লিখতে সাহায্য করবে।

শেষ করতে চাই এই কথাটি দিয়ে: "যাত্রা শুরু হয়েছে, গন্তব্য সুদূর।"