এসএসসি পরীক্ষার জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "অভাগীর স্বর্গ" শীর্ষক গল্পটি পড়ে যেমন মন খারাপ হয়ে হয়েছিল, আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "জীবিত ও মৃত" গল্পটি পড়ে আবার মন খারাপ হয়ে গেলো। পুরো গল্পটি কাদস্বীনি নামক এক বিধবা বউকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। গল্পের সারাংশ এই যে, রানিহাট গ্রামে এক জমিদার শারদাশংকর বাবুদের বাড়ির বিধবা বউ কাদস্বীনি। কাদস্বীনির পিতৃকুল বা পতিকুলে আর কেউ বেচেঁ নেই। থাকার মধ্যে এক ভাসুর পো আছে। সে ভাসুরপোকে কাদস্বীনি ছোট থেকেই বড় করেছে। অনেক স্নেহ দিয়েছে। সেই ভাসুর পোও ছিল কাদস্বীনির নেওটা। হঠাৎ একদিন কাদস্বীনি র হৃদস্পন্দন থেমে যায়। সবাই ভাবে মারা গিয়েছে। তবে শ্মশানে নিলে তার হৃদস্পন্দন ফিরে আসে। কাদস্বীনি ভাবে সে মারা গিয়ে ভুত হয়ে ফিরেছে। সে কাদামাখা বস্ত্রে হাঁটতে হাঁটতে শশুরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালেও শশুরবাড়িতে যায়না, কেননা তার বিশ্বাস সে ভুত। ফলে সে তার বাল্যকালের সইএর বাড়িতে চলে যায়। অনেকদিন সেখানে থাকার পরে সইয়ের স্বামী খোঁজ নিয়ে জানতে পারে কাদস্বীনি নাকি মারা গিয়েছে। এ নিয়ে সই আর সইয়ের স্বামীর নানা তর্ক হয় এবং রাগে, দুঃখে কাদস্বীনি সরাসরি শশুরবাড়ি আসে। এসে দেখে তার নেওটা ভাসুর পো শুকিয়ে গিয়েছে। ঘুমের ঘোরে কাকীর কাছে পানি খেতে চাইলে কাদস্বীনি তাকে পানি খাওয়ায়। কাদস্বীনি বুঝতে পারে,"বাল্যকালের সই মারা গিয়েছে, কিন্তু খোকার ঘরে এসে বুঝতে পেরেছে, খোকার কাকিমা একতিলও মরে নাই। শেষে কপালে চুম্মন দিলে ভাসুরপো ঘুম থেকে জেগে উঠে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলে "আবার তুই খোকার কাছে ফিরে এসেছিস, মরে যাবি নে?" হঠাৎ ঘরের অন্যান্যরা দেখলে সবাই কাদস্বীনিকে ভুত ভেবে চলে যেতে বলে। বেচারি কাদস্বীনি বেচেঁ আছে এটা প্রমাণ করতে শারদাশংকর বাবুর পুকুরে ঝাপ দেয় এবং মারা যায়। শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন "সমস্ত রাত্রি বৃষ্টি পড়িতে লাগিলো; তাহার পরদিন সকালেও বৃষ্টি পড়িতেছে মধ্যাহ্নেও বৃষ্টির বিরাম নেই। কাদস্বীনি মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।" গল্পটি আমার কাছে একেবারে হৃদয়স্পর্শী লেগেছে। অশ্রু না এলেও কাদস্বীনি বেচারীর জন্য অনেক খারাপ লেগেছে। বিশেষ করে "কাদস্বীনি মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।" লাইনটি পড়ে অনেক বেশি খারাপ লেগেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটা সুন্দর পরিণতি দিলেই পারতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন কেমন ঘরানার মানুষ, "সুভা" গল্পে সুভার পরিণতি ভালো হলো না, "অপরিচিতা" গল্পের শেষ আবেগময় না হলেও পূর্ণতা পায়নি, আবার "জীবিত ও মৃত" গল্পেও Happy Ending হলো না।
ছবি: সংগৃহীত।







0 Comment:
Post a Comment
আপনার যৌক্তিক মতামত লিখুন...