আজকে একটি ঘটনা বলি। আজ এক বড় অদ্ভুদ স্বপ্নের সম্মুখীন হইলাম। আজ আমি যাঁহাকে দেখিয়াছি, তিনি আমার সম্পর্কে বড় দিদি হন। আমি যেইবার প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হইয়াছিলাম (যে সরকারী প্রাইমারি স্কুলে আমি প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হইয়াছিলাম, সেখান হইতেই পঞ্চম শ্রেণী পাস করিয়াছিলাম) সেইবার সে দিদি ক্লাস ফাইভে পড়িতেন। আমি যখন প্রথম শ্রেণীতে তখন সেই স্কুলে অনেক ছাত্রছাত্রী ছিল, গাঁয়ের স্কুল হইলেও জনসংখ্যায় কোনো শহুরে স্কুলের হইতে কোনো অংশেই কম নহে। আমি ছোটবেলা হইতেই কখনো কাহারো সম্মুখে কিংবা "লাইম লাইটে" আসতে চাহিতাম না। দেখিতাম প্রতিদিন আমাদের ছুটির পরে পিটি হইতো, সেই পিটিতে তাঁহারা নেতৃত্ব দিতেন। "সুমি" নামক এক বড়আপু কর্তৃক সেই পিটির নেতৃত্ব দেওয়া হইতো। আমি বড়ই অবাক হইতাম যে পিটিতে এত এত শিক্ষার্থীকে কিভাবে তাঁহারা নেতৃত্ব দেন, যদি ভুল হয়? আবার তৎকালীন পিটি শিক্ষক ছিলেন "নয়ন স্যার" নামক একজন, তিনি যেমনই ছিলেন নিষ্ঠুর, তেমনই রাগী। একটু ভুল হইলেই আর মাফ নাই, একবার মানিক নামক এক বড়ভাইকে মারিয়া প্যান্ট আর জুতা ছিঁড়িয়া ফেলিয়াছিলেন। (আমাকে পিটি পালানোর অপরাধে একবার ধরা হইয়াছিল, কিন্তু কেন যেন কিভাবে মার থেকে রেহাই পাইয়া যাই, সেদিন কি বাঁচা বাঁচিয়াছি! আজও সেই দিনগুলিকে দন্ডবৎ করিতে মন কাঁদে।😭) আমি ছোটবেলা সেইসব দিদিদের বড়ই সম্মান করিতাম এই ভেবে যে ওনারা খুবই মেধাবী, নাহয় পিটি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?(যদিও আমিও ক্লাস ফাইভে সিনিয়র হিসেবে পুরো পিটি নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম পরে। সেইসময় পিটি নিয়ন্ত্রণ করা আসলেই কঠিন ছিল। আবার এমন নয় যে আমি তাহাদিগকে এখন সম্মান করি না, হ্যাঁ আমি এখনও তাহাদিগকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা করি।) অবাক করা বিষয় হইলো আমি যে সরকারী প্রাইমারি স্কুল হইতে ফাইভ পাস করিয়াছিলাম সেই স্কুলে প্রতিষ্ঠার পর হইতে ২টি গোল্ডেন A⁺ ছিলো, একটা আমার আর একটা সেই দিদির। পাঠক, এতক্ষণ আমি দিদির নামটাই তো বলিনাই। তাঁহার নাম ছিলো অর্ণা দিদি। বিশেষভাবে তাঁহার নাম উল্লেখ করিবার কারণ উনি পবিত্র গীতা ও শপথবাক্য পাঠ করাইতেন, আর এ জন্য অনেক সাহস দরকার হয় বলে আমার ছোটো মনে ধারণা হইতো এবং আজও হয়।¹ ২০১৫ তে সেই দিদি PEC পরীক্ষা দেন, আর আমি ২০১৯ এ। ২০১৫ থেকে আজ ২০২৫ এই ১০ বছরে আমার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নাই, আমি কখনো কাউকে মনেও করিনাই। তাঁহার মা পাশের এক গার্লস স্কুলের শিক্ষক ছিলেন(এখনও আছেন) এবং তাঁহাদের বাসা উপজেলায় ছিল। (পাঠক, এতকিছু আমার দ্বারা জ্ঞাত কেননা আমার মায়ের সঙ্গে সেই ম্যামের ওঠাবসা ছিল।) তিনি লেখাপড়ায় কেমন ছিলেন তাহা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নাই, যদিও আমি মনে করি তিনি মেধাবী এবং পরিশ্রমী ছিলেন এবং তাই গোল্ডেন A⁺ অর্জন করিয়াছিলেন। আজ হঠাৎ স্বপ্নে আমার সেই দিদির সঙ্গে আমার দেখা হয়, আমি যে হাই স্কুল থেকে পাস করিয়াছি তাহার ক্যাম্পাসে (উল্লেখ্য যে, আমার প্রাইমারি স্কুল আর হাই স্কুল একই মাঠের অধীন, এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে যাইতে ২০সেকেন্ডের বেশি লাগে না।)। তো সেই দিদির সঙ্গে আমার অনেক কথা হয় যেমন - তাঁহারা চলে যাইবার পরে আমিও একদা ওই স্কুলের পিটির ভার সামলাইয়াছিলাম, ওই স্কুলের গোল্ডেন A⁺ একটা তাঁহার এবং অন্যটা আমার, আরো নানান কথা তাঁহার সঙ্গে বলেছিলাম যাহা মস্তিকে হাতড়াইয়া এই মূহুর্তে আমি পাইতে ব্যর্থ হইতেছি। তবে একটা বিশেষ কথা মনে আছে, তাঁহার কাছ হইতে বিদায় লওয়ার আগে আমি স্কুল ব্যাগ থেকে কার্ল মার্ক্স রচিত "মজুরী, দাম, মুনাফা" শীর্ষক বই আর অ্যাডলফ হিটলারের আত্মজীবনী তথা না ৎসি বাহিনীর বাইবেল "মাইন ক্যাম্ফ" বইটি দেই এবং তিনি সাদরে তা গ্রহণ করেন।(পাঠক, বাস্তবেও এই দুটো বই আমার ব্যাগে রাখা আছে এবং জানা আছে, তাই হয়ত স্বপ্নেও জানিতাম যে ব্যাগে এই বইগুলো আছে)। তিনিও কি কি বই যেন আমাকে দিলেন, সেগুলির শিরোনাম আমার মনে নাই। তাঁহার ছায়া কিংবা মুখখানি আমার মনে নাই, কিন্তু বানারীপাড়ার বন্ধুদের মতো তাহাকেও আমি মনের ভেতরে শ্রদ্ধার উচ্চ অংশে স্থান দিয়েছি এক অজ্ঞাত রূপে। এরপরে, তাঁহার সঙ্গে আমার আর কোনো কখনো দেখা হয়নাই, যদিও বাস্তবে তাঁহার সঙ্গে একটিবার দেখা করিবার আমার প্রচুর ইচ্ছা রইবে; যাহা অপূর্ণ রইয়া যাইবার পরিসংখ্যানই হইবে সর্বাধিক।







0 Comment:
Post a Comment
আপনার যৌক্তিক মতামত লিখুন...