শস্য, মাঠ ও প্রকৃতি।

দৃ ষ্টিপাত হইয়াছে—মাঠ হইতে শস্য উত্তোলিত হইতেছে, কৃষকের মুখমণ্ডলে এক পরিশ্রমজাত পূর্ণ হাস্য উৎকীর্ণ রহিয়াছে। কিন্তু সেইই মাঠের গর্ভে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, মঠ নির্মাণ করিয়া কাহাকে কখনও এক দানা শস্য উৎপাদন করিতে দেখি নাই; দৃষ্টিগোচর হইয়াছে কেবল কুসংস্কারের দুর্বিষহ ভার। এই কুসংস্কার মানুষ বহু শতাব্দী ধরিয়া বহন করিয়া আসিয়াছে—মিথ্যা মানসিক শান্তির নামে, আধ্যাত্মিকতার প্রতারণাময় আবরণের অন্তরালে। দেখিয়াছি ধর্মের নামধারী গুরুগণ স্বর্ণলোলুপ হইয়া উঠিতেছেন, কৃষক, সাধারণের হৃদয় ভেদিয়া। জিজ্ঞাস্য—যে শতসহস্র নর-নারী মন্দির-মসজিদের চরণে মস্তক নত করিয়া প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকে, তাহাদের কণ্ঠনালী ক্ষুধার জ্বালায় শুষ্ক হইয়া গেলেও, সেই 'পরম করুণাময়' বলিয়া কথিত সত্ত্বা কি একটি মুষ্টি অন্নের ব্যবস্থা করিতে পারেন না? প্রার্থনার ঘণ্টাধ্বনি ও আজানের সুরে ভোজনমুদ্রা জোগায় না, জোগায় কেবল প্রতারণার সঘন বীথিকা।

0 Comment:

Post a Comment

আপনার যৌক্তিক মতামত লিখুন...