নিচের ছবিখানি নিয়ে আমার কিছু খুচরো বক্তব্য আছে। মানুন আর নাই মানুন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিয়েই হয় মেয়েদের হালালভাবে ভক্ষণ করার জন্য, বরং মেয়েটাকে ভালোবেসে আপন করে নেওয়ার জন্য নয়। যৌনক্ষুধা মেটাতে পতিতালয়ে যাবে? ধরা পড়ে গেলেই মান ইজ্জত শেষ। তবে বিয়ে করে কি যৌনক্ষুধা মেটানো অপরাধ? আমি বলবো, মোটেই না। কেননা বিয়ের মাধ্যমেই মানবক্রম সচল থাকে, নাহলে মানুষেরও একসময় বিলুপ্ত হয়ে যেতে হবে এই নিষ্ঠুর প্রকৃতিতে। তবে এখানে আমাদের দেশের চিত্র আঁকছি, সম্পূর্ণ মানব সভ্যতার নয়। এদেশের একটি বাস্তব চিত্র হলো ১৮এর কোটা পেরুনোর আগেই মেয়ে বিয়ে দাও, নাহয় মেয়ে নষ্ট হবে, যেনা করবে, জাহান্নামী ব্লা ব্লা ব্লা...।
১৬-১৮ এর কোটায় যে সুড়সুড়ি থাকে তা আমি অস্বীকার করছি না। তবে এই বয়সে শাসন করবে অভিভাবক। মেয়েটা কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে অভিভাবক যে ধোয়া তুলসী পাতা আর সব দোষ মেয়েটার এবং "এই অনৈতিক সম্পর্ক থামাতে বিয়ে দাও" এমন কিছু মতবাদ নিয়ে আসবে কিছু সমকামী নারীলোভী মোল্লা,তবে এ বিষয়টা মানতে আমার কষ্ট হচ্ছে। বিয়ের পরে কি করবে? অপরিপক্ব জরায়ুতে বাচ্চা পয়দা করবে? আর বিয়ের পরে মেয়ে যায় শ্বশুরবাড়ি, তখন পরিপক্ক বয়সের আগে মিলনে বাধাদান আমাদের দেশে এক অবাস্তব কল্পনা। তার থেকে বিয়ে না দিয়ে যদি মেয়েটাকে চোখে চোখে রাখা হয়, তাতেই ভালো।
এখন প্রশ্ন আসবে, এখনকার ছেলে মেয়েরা বড্ড চালাক। মোবাইল নিয়ে কখন কি করে অভিভাবকরা বুঝতে পারেন না। সেসব অভিভাবকদের মুখে উচ্ছে চিংড়ি ঘষে দিয়ে বলতে চাই, তাহলে বাপু অত শখ করে বাচ্চা পয়দা ক্যান করতে গেছিলেন, যদি বাচ্চা না~ই সামলাইতে পারেন? এ ছেলে / মেয়ে আপনার, সে যতই চালাক হোক তার থেকে আপনার দ্বিগুণ চালাক হতে হইবে। আচ্ছা মানলাম কোনো মোল্লা এসে মেয়ের বাপ মাকে "ধর্মীয় নিয়ম" নামের বিষাক্ত আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে মেয়েকে এক বড় কাকার বয়সী বা দাদার বয়সী বা বড় কোনো লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে, ছেলের টাকা - পয়সা আছে! দুইদিন পরে মেয়েটাকে মতের অমিলে বা অন্য যেকোনো কারণে মেরে তেরে বের করে দিল (এমন ঘটনা বাংলাদেশে হয়নাই বা হয়না বা হবেনা এর গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। এমন ঘটনা এদেশে আগে কভু হয়নাই, এ কেউ অস্বীকার করতেও পারবে না)। সত্য কথা হলো এই, যারা বড়লোক তারা একটু গরীব ধরণের ধর্ম দিয়ে মগজ পচানো পরিবারের মেয়েই বিয়ে করতে চায়, যেন বিনামুল্যে ঝিয়ের কাজ করানো যায়, আবার রাত্রে বউয়ের কাজও করানো যায়। বিয়ে টিকে গেলে ভালো। আচ্ছা, মনে করি মেয়েটাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে, এবার কি হবে? বাঙ্গুদেশে মেয়ের অতীত হতে হবে পরিষ্কার, আগেরবার তালাক ছেলের কারনে হয়েছিল নাকি মেয়ের কারনে হয়েছিলো সেসব দেখার সময় কই(অবশ্য অস্বীকার করা যাবেনা যে ইদানিং কিছু মানুষ এসব বিবেচনা করে, খোজ খবর নেয়। তবে তার সংখ্যা খুব কম।)? ঈমানদন্ডখানা দাড়িয়ে আছে কোনো জরায়ুর সন্ধানে।
শেষমেশ অন্য জায়গায় বিয়ে হলেতো হলো, কিন্তু না হলে? এবার বাপের বাড়ী বসে আর থাকা যায়না। করবে কি? সভ্যভাবে বেচেঁ থাকার জন্য আপাতত একটা চাকরি কি জরুরি নয়? এইবার ছবির প্রথম কথায় আসি, "থাকলে কামাই, লাগেনা জামাই"। কথাটা আংশিক সত্যি। এখন নির্ভর করে মেয়েটার ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা - দীক্ষা, পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ামক। যেমন মেয়েটি আগে উপরের অভিজ্ঞতার স্বীকার হলে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চাইবে না, স্বাভাবিক। আজকাল আপিস থেকে এসে ফ্ল্যাটে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে কে কার কথা মনে রাখে? টাকাই সব হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। কিন্তু এটা মানবসমাজের আদর্শরূপ নয়। স্বামী চাই এমন, যে দু চারটে না জুটিয়ে মেয়েটির প্রতি প্রেমনিষ্ঠ থাকবে, আবার মেয়েটিও দু চারটে না জুটিয়ে ছেলেটির প্রতি প্রেমনিষ্ঠ থাকবে, এটাই আদর্শরূপ।
এবার আসি দ্বিতীয় কথায়, "থাকলে জামাই, লাগেনা কামাই", এ কথাও আংশিক সত্যি। এদেশে ১৪০০ বছরের ইতিহাস ধরে রাখতে কুড়িখানে বিয়ে করে না পারে সবার মন জোগাতে, না পারে চাহিদা মেটাতে, পারে শুধু ঈমানদন্ডের ব্যবহার। স্বামী একেবারে আদর্শ হলে ল্যাঠা চুকে যেত, কিন্তু স্বামীযে একেবারে আদর্শ হবে, এ কথা কে বললে? সব স্ত্রীর দিকে নজর দিতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক, বা নজর দিতে পারলেও অবহেলা বা কিপ্তেমি করলে মেয়েটা কি করবে? উপার্জন ছাড়া উপায়? এবার মানলাম সব ঠিকঠাক। স্বামীর উপার্জন আছে, স্ত্রীর দিকে খেয়াল রাখে,তবে চাকরির কি দরকার। বাড়িতে বসে বাচ্চা সামলাবে না কেন? এইবার নিয়ামক হলো স্বামীর উপার্জনের পরিমাণ ও মুদ্রাস্ফীতি। মধ্যবিত্ত পরিবার আজকের আগুনচড়া বাজারে হিমশিম খাচ্ছে, না পারে সইতে আর কইতে। আমি বলছি না যে স্ত্রী বাচ্চা সামলাবে না,মা সামলাবে না তো কে সামলাবে? বাবা কি মরেছে? হ্যাঁ, যখন টানে বা অন্য কারণে পড়ে স্ত্রীও কাজে যায়, তখন একটা ভারসাম্য করা দরকার। এমন নয় যে বাচ্চাকে বৃদ্ধাশ্রমের মত শালায় পাঠিয়ে ফুর্তি করো। কোনো মা এমন করবে বলে মনে হয়না। সুতরাং, চাকরি একটা পেলে যে স্বামী অবহেলিত বা সর্বদা স্বামীর উপরেই নির্ভর করবো, ব্যপারটা এমন নয়। বরং দরকার প্রেমনিষ্ঠ স্বামী এবং চাকরি, যেন সকল চাপ স্বামীর একার উপর দিয়ে না যায়, জীবনসঙ্গী হিসেবে কিছু চাপ মেয়েটাকে ছেড়ে দাও!
এইবার কিছু লোকের প্রশ্ন:
- আমার ঈমানদন্ড নাই? আমি হিজড়া? উত্তর: ঈমানদন্ড থাকলেই যেখানে সেখানে ব্যবহার করা লাগবে কে বললো?
- আমি পুরুষ বিদ্বেষী কথা কেন বললাম? উত্তর: এতে আমার দোষ নেই। সমাজে বেশি আমি যা দেখেছি, তাই বলেছি।
শেষমেষ আমি বলবো একেবারে ঘর সংসার ফেলে চাকরির বাজারে সন্ন্যাসিনী হয়ে যাও কিংবা ঘরে অভাবের ভেতরে কাটাও, এমন দুইই করিও না।







0 Comment:
Post a Comment
আপনার যৌক্তিক মতামত লিখুন...